বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছেন তামিম ইকবাল। মাঠের বাইরে প্রশাসনিক ভূমিকায় নতুন যাত্রা শুরু করলেও ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দলকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার বেশ কয়েকটি আলোচনার খবর পাওয়া গেছে, যা দলের পরিবেশকে ইতিবাচক রাখতে সহায়ক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সেখানে নতুন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। মিরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, তামিম ইকবাল মূলত দলকে উৎসাহিত করেছেন এবং বর্তমান পারফরম্যান্স ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
মিরাজ বলেন, দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে সভাপতি সন্তুষ্ট এবং তিনি খেলোয়াড়দের আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। দলের সবাইকে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার পরামর্শ দিয়েছেন তামিম। মিরাজের মতে, একজন সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে তামিমের এই ধরনের দিকনির্দেশনা খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিরাজ জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে দল খুব ভালো অনুশীলন করেছে। তার মতে, এই সময়টাতে খেলোয়াড়রা নিজেদের স্কিল উন্নয়নে মনোযোগ দিয়েছে এবং বাইরের কোনো বিষয় তাদের মনোযোগ বিচ্যুত করতে পারেনি। তিনি বলেন, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভাবলে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে, তাই দল শুধু নিজের কাজেই মনোযোগ দিয়েছে।
অনুশীলনের মান নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মিরাজ। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অনুশীলন ছিল পরিকল্পিত এবং কার্যকর, যা ম্যাচে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই উন্নতির চেষ্টা করেছে দল।
নিউজিল্যান্ড সিরিজ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, সিরিজের শুরুটা ভালো করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন ম্যাচের এই সিরিজে প্রথম ম্যাচ জয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দল। কারণ, শুরুতে জয় পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পুরো সিরিজে ভালো পারফরম্যান্স করার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রথম ম্যাচে ভালো ফলাফল দলের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দল চেষ্টা করবে প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজেদের সেরাটা দিতে।
দলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মিরাজ মনে করেন, সবাই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। প্রত্যেক খেলোয়াড় জানে তাকে কী করতে হবে এবং দলের জন্য কীভাবে অবদান রাখতে হবে। এই দায়িত্ববোধই দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
তামিম ইকবালের নতুন ভূমিকায় আসা নিয়ে দলের ভেতরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে তার উপস্থিতি খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটাররা তার কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পেলে তা তাদের ক্যারিয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, আসন্ন সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দল আত্মবিশ্বাসী এবং প্রস্তুত। দলের ভেতরে ইতিবাচক পরিবেশ, ভালো অনুশীলন এবং নেতৃত্বের সমন্বয়—সব মিলিয়ে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
এখন দেখার বিষয়, মাঠে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন কতটা ঘটে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল কতটা সফলতা অর্জন করতে পারে। তবে দলীয় ঐক্য, পরিকল্পনা এবং আত্মবিশ্বাস—এই তিনটি বিষয় ঠিক থাকলে ভালো ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা যে উজ্জ্বল, তা বলাই যায়।