
১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত চাঁদ দেখার তথ্য যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—কবে থেকে শুরু হবে পবিত্র জিলকদ মাস।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ।
চাঁদ দেখা কমিটির এই সভা বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ইসলামী ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি সনের প্রতিটি মাস শুরু হয় নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে। তাই জিলকদ মাসের সূচনা নির্ধারণেও এই সভার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া চাঁদ দেখার তথ্য উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছ থেকেও চাঁদ দেখার সংবাদ সংগ্রহ করা হবে। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে—জিলকদ মাস কবে থেকে গণনা শুরু হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সাধারণত দেশব্যাপী চাঁদ দেখার জন্য একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয় যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় চাঁদ দেখার চেষ্টা করেন এবং দেখা গেলে তা দ্রুত নিকটস্থ জেলা প্রশাসন বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে জানান। এরপর এসব তথ্য যাচাই করে কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তার নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে—দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেছে কিনা এবং সেই অনুযায়ী নতুন মাসের প্রথম দিন কবে।
জিলকদ মাস ইসলামী বর্ষপঞ্জির এক গুরুত্বপূর্ণ মাস। এটি হিজরি বছরের একাদশ মাস এবং পবিত্র হজের প্রস্তুতির সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মাসের পরেই আসে জিলহজ, যে মাসে মুসলমানরা হজ পালন করেন এবং ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। তাই জিলকদ মাস শুরু হওয়ার সময় নির্ধারণ করা ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদ দেখা কমিটি এই দায়িত্ব পালন করে আসছে। তাদের ঘোষণার ওপর ভিত্তি করেই দেশের মুসলমানরা রোজা, ঈদ এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম নির্ধারণ করে থাকেন। এ কারণে চাঁদ দেখা সংক্রান্ত যেকোনো ঘোষণা সর্বসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
প্রতি মাসের মতো এবারও সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন চাঁদ দেখা সংক্রান্ত ঘোষণার জন্য। বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ওপর নির্ভর করে তাদের ধর্মীয় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা।
চাঁদ দেখা না গেলে সাধারণত চলতি মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে পরের দিন থেকে নতুন মাস গণনা শুরু হয়। আর যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন থেকেই নতুন মাস শুরু হয়। এই নিয়ম ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নির্ধারিত এবং সারা বিশ্বেই মুসলমানরা এই নিয়ম অনুসরণ করে থাকেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে, কেউ যদি কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে পান, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ প্রশাসন বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য। এতে করে সঠিক ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শনিবারের এই সভা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, বরং এটি দেশের কোটি মুসলমানের ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সভা শেষে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলকদ মাসের সূচনা।
মন্তব্য করুন