Mojammmal Fahad
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

সংস্কার থামলে দেশ আবার অস্থিরতার পথে যাবে: হাসনাত

সংস্কার থামলে দেশ আবার অস্থিরতার পথে যাবে: হাসনাত
সংস্কার থামলে দেশ আবার অস্থিরতার পথে যাবে: হাসনাত

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংস্কারের প্রশ্নে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার। তার মতে, কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিএল ভবনে আয়োজিত একটি নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ভয়েস অব রিফর্ম’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম এই সংলাপের আয়োজন করে, যেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অতীতের গণ-আন্দোলনগুলো মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান একটি ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে জনগণ রাষ্ট্রের ভিতরকার সমস্যাগুলো সমাধান করার দাবি তুলেছে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র নেতৃত্ব পরিবর্তন করে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার সংস্কার।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে আসে, তাহলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে। এমনকি নতুন করে আন্দোলন বা অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

তার বক্তব্যে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন—ব্যক্তির পরিবর্তে ধারণার পরিবর্তন। তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তিকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। যদি একই ধরনের চিন্তাধারা ও কাঠামো বহাল থাকে, তাহলে অন্য কেউ আবার সেই একই অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।” তার মতে, তাই রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।

সংলাপে মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সঠিকভাবে কার্যকর না হলে এর কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, এ ধরনের আইন যদি বাস্তবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে তদন্ত প্রক্রিয়া আবারও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, যা নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে।

তিনি বিশেষভাবে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “মানুষ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় যেখানে কেউ হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাবে না এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় ভুগবে না।”

এই সংলাপে আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ দ্রুত পাস হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনও জটিলতায় আটকে রয়েছে। তার মতে, এ বিষয়ে বিলম্ব হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, বিশ্লেষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা সবাই একমত হন যে, একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন কার্যকর আইন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা জরুরি। বিশেষ করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

সবশেষে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। অন্যথায়, জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সার্বিকভাবে, এই নাগরিক সংলাপ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংস্কারের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, বাংলাদেশে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া

সবজির বাজারে আগুন, অধিকাংশের দাম ১০০ টাকার ওপরে

সাংগ্রাই জলকেলিতে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন মারমা তরুণ-তরুণীরা

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে শনিবার বৈঠকে বসছে কমিটি

অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে এয়ারলাইন্স খাতের গুরুত্ব বাড়ছে

তামিম সভাপতি হওয়ার পর মিরাজের সঙ্গে কী আলোচনা?

সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েল-লেবানন আলোচনায় বসছে, আশাবাদী ট্রাম্প

অক্সিজেন আর ক্যানুলায় ভর করে বেঁচে থাকার লড়াই শিশুদের

আ.লীগ আমলের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে উদ্যোগ

১০

হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড

১১

ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন উদ্যোগ, ডেটা ওয়্যারহাউজ প্রকল্প ঘোষণা

১২

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বমন্দার আশঙ্কা, সতর্ক করল আইএমএফ

১৩

ইসরাইলি ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ক্রুজ মিসাইল হামলা, বৈরুতে তীব্র প্রতিবাদ

১৪

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬: ফের আর্থিক খাতে লুটপাটের আশঙ্কা

১৫

লাইভস্ট্রিমে ভিউ বাড়লেই কমবে বিজ্ঞাপন, নতুন ঘোষণা ইউটিউবের

১৬

সংবিধান পরিবর্তনে নতুন সমঝোতা, একসঙ্গে সরকার-বিরোধী দল

১৭

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় এ ইউনিটের ফল প্রকাশ, ফেল করেছে ৭০%

১৮

স্মৃতির পাতায় ফেলে আসা নববর্ষ

১৯

শৈশবের বৈশাখ: মায়ের শাড়ি থেকেই জামা বললেন বানাতেন পরীমণি

২০