Mojammmal Fahad
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

সংবিধান পরিবর্তনে নতুন সমঝোতা, একসঙ্গে সরকার-বিরোধী দল

সংবিধান পরিবর্তনে নতুন সমঝোতা, একসঙ্গে সরকার-বিরোধী দল
সংবিধান পরিবর্তনে নতুন সমঝোতা, একসঙ্গে সরকার-বিরোধী দল

সংবিধান সংশোধনকে সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যৌথ উদ্যোগে একটি সম্মিলিত প্রস্তাব আনার কথা জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে খুব শিগগিরই উভয় পক্ষ ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের টানেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর হবে বলে মত দেন তিনি। তার ভাষায়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে হলে সব রাজনৈতিক পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

চিফ হুইপ বলেন, “সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আমাদের এবং বিরোধী দলের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে আমরা একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পারব এবং সম্মিলিতভাবে একটি প্রস্তাব আনতে সক্ষম হব।”

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে একটি স্থিতিশীল কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নেওয়া। তার মতে, সংসদ হচ্ছে এমন একটি জায়গা, যেখানে মতভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক; তবে সেই মতভিন্নতাকে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে। দেশপ্রেম এবং জনগণের কল্যাণের প্রশ্নে সব দলই শেষ পর্যন্ত এক জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। “ঐক্যমতে পৌঁছানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র,”—যোগ করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও ইতিবাচক দিকগুলোও গণমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তার মতে, শুধুমাত্র নেতিবাচক সংবাদ তুলে ধরা হলে সামগ্রিক চিত্র বিকৃত হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড বন্ধ থাকার সংবাদ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে ঠিকই, তবে একই সঙ্গে যে দুটি জাহাজে প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন তেল ঘাটে নোঙর করে আছে—এই তথ্যটিও সমানভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল। এতে করে জনগণ একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে পারত।

সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং মানবিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন, গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা—এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মসংস্থান এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, বরং বহুমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য ভাষাজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারকে মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের একাধিক ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য আরবি, চীনে মান্দারিন, ইতালিতে ইতালিয়ান, কোরিয়ায় কোরিয়ান এবং জাপানে কাজ করতে হলে জাপানিজ ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি, দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি শেখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, কারণ এটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

চিফ হুইপ আরও জানান, এ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। শিক্ষামন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছেন এবং শিগগিরই একটি নির্দেশিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন।

সব মিলিয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার দিকে এগোতে চায়। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সত্যিই সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তাহলে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এতে শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই বাড়বে না, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও শক্তিশালী হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, বাংলাদেশে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া

সবজির বাজারে আগুন, অধিকাংশের দাম ১০০ টাকার ওপরে

সাংগ্রাই জলকেলিতে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন মারমা তরুণ-তরুণীরা

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে শনিবার বৈঠকে বসছে কমিটি

অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে এয়ারলাইন্স খাতের গুরুত্ব বাড়ছে

তামিম সভাপতি হওয়ার পর মিরাজের সঙ্গে কী আলোচনা?

সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েল-লেবানন আলোচনায় বসছে, আশাবাদী ট্রাম্প

অক্সিজেন আর ক্যানুলায় ভর করে বেঁচে থাকার লড়াই শিশুদের

আ.লীগ আমলের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে উদ্যোগ

১০

হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড

১১

ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন উদ্যোগ, ডেটা ওয়্যারহাউজ প্রকল্প ঘোষণা

১২

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বমন্দার আশঙ্কা, সতর্ক করল আইএমএফ

১৩

ইসরাইলি ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ক্রুজ মিসাইল হামলা, বৈরুতে তীব্র প্রতিবাদ

১৪

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬: ফের আর্থিক খাতে লুটপাটের আশঙ্কা

১৫

লাইভস্ট্রিমে ভিউ বাড়লেই কমবে বিজ্ঞাপন, নতুন ঘোষণা ইউটিউবের

১৬

সংবিধান পরিবর্তনে নতুন সমঝোতা, একসঙ্গে সরকার-বিরোধী দল

১৭

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় এ ইউনিটের ফল প্রকাশ, ফেল করেছে ৭০%

১৮

স্মৃতির পাতায় ফেলে আসা নববর্ষ

১৯

শৈশবের বৈশাখ: মায়ের শাড়ি থেকেই জামা বললেন বানাতেন পরীমণি

২০