
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াড। বিশেষ বিষয় হলো, পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে যে দল নিয়ে বাংলাদেশ খেলেছিল, সেই একই স্কোয়াড নিয়েই এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই আগের দলকে আবারও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সেই সিরিজে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ভালো পারফর্ম করলেও পুরো স্কোয়াডের সবাইকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। নির্বাচকরা মনে করছেন, সেই একই দলকে আরও একটি বড় সিরিজে খেলানোর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা এবং দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
শনিবার বিসিবির নতুন নির্বাচক প্যানেল প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য দল ঘোষণা করে। ঘোষিত স্কোয়াডে বড় কোনো চমক বা পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের সিরিজে সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়দের ওপরই আবারও আস্থা রাখা হয়েছে। নির্বাচকরা জানিয়েছেন, এই স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকেই এখনো তাদের পুরো সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পাননি। তাই তাদের আরও একটি সিরিজে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া বিশেষভাবে নজরে আছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তারা সাম্প্রতিক সময়ে দলে ফিরেছেন এবং নির্বাচকরা মনে করছেন, তাদের পারফরম্যান্স যাচাই করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হতে পারে। এই দুই ক্রিকেটারকে নিয়েও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করছে নির্বাচক প্যানেল।
বাংলাদেশ দল আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামবে। সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ২০ এপ্রিল এবং ২৩ এপ্রিল। শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে এই সিরিজকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘোষিত স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রণ দেখা গেছে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে দলটিতে রয়েছেন সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় এবং লিটন দাসের মতো ব্যাটসম্যানরা। অলরাউন্ড বিভাগে আছেন আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন এবং তানভীর ইসলাম। বোলিং আক্রমণে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম এবং তরুণ পেসার নাহিদ রানা।
নির্বাচকদের মতে, এই স্কোয়াডে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হয়েছে যাতে খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন। তারা মনে করেন, বারবার পরিবর্তন করলে দলের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, বিশেষ করে যখন দল ভালো পারফরম্যান্স করছে।
সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশ একই স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে, যা দলীয় আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগাররা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে কি না এবং আগের সিরিজের মতো সাফল্য পুনরাবৃত্তি করতে পারে কি না।
মন্তব্য করুন