দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা হবে। তবে বর্তমানে হামে আক্রান্ত বা জ্বরে ভোগা শিশুদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া হবে না।
শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগে টিকা নেওয়া থাকলেও নতুন এই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের আবারও টিকা দেওয়া হবে এবং এতে কোনো ঝুঁকি নেই। আর যারা অসুস্থ বা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, তাদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যাতে জটিলতা কমানো যায়।
তিনি আরও জানান, হামের প্রকোপ বেশি এমন ৩০টি উপজেলায় রোববার থেকে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচি শুধু ওই উপজেলাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ধাপে ধাপে সারা দেশে এটি বিস্তৃত করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় টিকাদান কার্যক্রমের পর জন্ম নেওয়া অনেক শিশু এখনো টিকার বাইরে রয়েছে। তাই এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আগে টিকা নেওয়া শিশুরাও পুনরায় টিকা নিলে কোনো সমস্যা হবে না।
প্রথম ধাপে ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। এসব উপজেলা হলো—
রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোণার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, নাটোর সদর এবং যশোর সদর।
মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ
মন্তব্য করুন