
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে যেসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার কথা ছিল, সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। বরং এসব প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে সরকার একাধিক ওয়াদা ভঙ্গ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যারা জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিণতি কখনোই ইতিবাচক হয়নি।
শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ্রমিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোট ও আস্থার মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও, সেই আস্থার প্রতিফলন তারা অনেক ক্ষেত্রেই রাখতে পারেনি। বিশেষ করে শ্রমিক, ছাত্র এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, সরকার যেসব সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার একটি বড় অংশ এখনো বাস্তবায়নের বাইরে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “যে সরকার ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আন্দোলন ও রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের অবশ্যই জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস তাদের কঠোরভাবে মূল্যায়ন করবে।” নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে ওয়াদা ভঙ্গের একটি সুস্পষ্ট পরিণতি রয়েছে এবং বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সেটিই প্রমাণ করে।
বক্তৃতায় তিনি নতুন রাজনৈতিক ধারার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন।” তিনি দাবি করেন, এই নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শ্রমিকদের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে শ্রমিক তার পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হবে না।”
নাহিদ ইসলাম সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামনে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের লড়াই আসছে, সেখানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু জাতীয় সংসদের ভেতরের রাজনীতিই নয়, প্রয়োজনে রাজপথেও সংগঠিত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম প্রয়োজন। এই সংগ্রামে শ্রমিক, ছাত্র এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন বেতন বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সবশেষে নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে কোনো সরকারই দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। তাই বর্তমান সরকারের উচিত তাদের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।
মন্তব্য করুন