Mojammmal Fahad
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েল-লেবানন আলোচনায় বসছে, আশাবাদী ট্রাম্প

সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েল-লেবানন আলোচনায় বসছে, আশাবাদী ট্রাম্প
সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েল-লেবানন আলোচনায় বসছে, আশাবাদী ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লেভান্ট অঞ্চলের দুই প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েললেবানন শিগগিরই বৈঠকে বসতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধাবস্থার মধ্যে এমন একটি সম্ভাব্য বৈঠককে তিনি ‘স্বস্তির অবকাশ’ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভাঙতে যাচ্ছে এবং প্রায় ৩৪ বছর পর শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির অবকাশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। আগামীকাল তারা কথা বলবে— এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ।”

তবে এই সম্ভাব্য বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প। কোথায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে, কারা এতে অংশ নেবেন বা আলোচনার মূল বিষয়বস্তু কী হবে— সে বিষয়ে তার পোস্টে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা নিজেই একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে। কারণ দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরিতাপূর্ণ এবং সীমান্ত সংঘর্ষ প্রায় নিয়মিত ঘটনা। বিশেষ করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলার কারণে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কিছু কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। গত ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসি-তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে এক বৈঠকে বসেছিলেন ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই বৈঠককে অনেকেই সম্ভাব্য বড় সংলাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।

তবে সেই বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের ওই আলোচনার পরও মাঠপর্যায়ে সংঘাত থেমে নেই। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেকটা অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN ইসরায়েল ও লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো বৈঠকের বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যকে কেউ কেউ কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেও দেখছেন। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি সংলাপ শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত কমাতে এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো— উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা সহজ নয়।

এছাড়া আঞ্চলিক রাজনীতিতে অন্যান্য শক্তির প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় একটি অঞ্চলের উত্তেজনা অন্যত্রও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইসরায়েল-লেবানন সংলাপ সফল হলেও তা স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তবে সব অনিশ্চয়তার মাঝেও আলোচনার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুদ্ধের মধ্যেও যদি সংলাপের পথ খোলা থাকে, তাহলে তা ভবিষ্যতে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্পের দেওয়া এই তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এখনো অনেক কিছুই অনিশ্চিত, তবুও সম্ভাব্য বৈঠকটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরাতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা অগ্রগতি অর্জন করতে পারে এবং তা আদৌ স্থায়ী স্বস্তি বয়ে আনতে সক্ষম হয় কি না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, বাংলাদেশে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া

সবজির বাজারে আগুন, অধিকাংশের দাম ১০০ টাকার ওপরে

সাংগ্রাই জলকেলিতে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন মারমা তরুণ-তরুণীরা

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে শনিবার বৈঠকে বসছে কমিটি

অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে এয়ারলাইন্স খাতের গুরুত্ব বাড়ছে

তামিম সভাপতি হওয়ার পর মিরাজের সঙ্গে কী আলোচনা?

সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েল-লেবানন আলোচনায় বসছে, আশাবাদী ট্রাম্প

অক্সিজেন আর ক্যানুলায় ভর করে বেঁচে থাকার লড়াই শিশুদের

আ.লীগ আমলের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে উদ্যোগ

১০

হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড

১১

ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন উদ্যোগ, ডেটা ওয়্যারহাউজ প্রকল্প ঘোষণা

১২

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বমন্দার আশঙ্কা, সতর্ক করল আইএমএফ

১৩

ইসরাইলি ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ক্রুজ মিসাইল হামলা, বৈরুতে তীব্র প্রতিবাদ

১৪

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬: ফের আর্থিক খাতে লুটপাটের আশঙ্কা

১৫

লাইভস্ট্রিমে ভিউ বাড়লেই কমবে বিজ্ঞাপন, নতুন ঘোষণা ইউটিউবের

১৬

সংবিধান পরিবর্তনে নতুন সমঝোতা, একসঙ্গে সরকার-বিরোধী দল

১৭

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় এ ইউনিটের ফল প্রকাশ, ফেল করেছে ৭০%

১৮

স্মৃতির পাতায় ফেলে আসা নববর্ষ

১৯

শৈশবের বৈশাখ: মায়ের শাড়ি থেকেই জামা বললেন বানাতেন পরীমণি

২০