জাতীয় সংসদে গুম প্রসঙ্গে আলোচনায় আবেগঘন বক্তব্য তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একইসঙ্গে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম-এর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যসূচিতে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ ব্যারিস্টার আরমানের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার আরমান তার ঘনিষ্ঠজন এবং সহকর্মী। তিনি নিজেও দীর্ঘ সময় গুমের শিকার ছিলেন। দেশে তার মতো আরও শতাধিক মানুষ একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গুমের শিকারদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিও রয়েছেন, যারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। এসব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, গুমের সঙ্গে জড়িত কেউই আইনের ফাঁক গলে রেহাই পাবে না।
তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধুমাত্র কোনো পরিবার নয়, বরং পুরো দেশের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিরোধী সদস্যদের আপত্তির মুখে আইনমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন যে, বিদ্যমান মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বর্তমান কাঠামোয় বহাল থাকলে ভুক্তভোগীরা পূর্ণ ন্যায়বিচার নাও পেতে পারেন।
তিনি জানান, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় তদন্ত ও বিচার হলে অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, বর্তমান অধ্যাদেশে গুমের শাস্তি তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার সময়সীমা জটিল হওয়ায় ভুক্তভোগীরা আরও ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে মত দেন তিনি।
আইনমন্ত্রী জানান, সরকার বিদ্যমান আইনগুলো পর্যালোচনা করে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই বা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে নতুন বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, গুমসংক্রান্ত আইন, তদন্ত পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মধ্যে কোনো ধরনের অসামঞ্জস্য না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে এবং তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন