গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞান অনুষদ ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ফল প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছেন, যা এবারের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলকে বেশ হতাশাজনক করে তুলেছে।
তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ‘এ’ ইউনিটে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৮ জন শিক্ষার্থী। অনুপস্থিত ছিলেন ৪০ হাজার ২২৪ জন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩৮ হাজার ৮৮ জন ভর্তি যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। শতাংশের হিসাবে যা দাঁড়ায় প্রায় ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে, ৮৭ হাজার ৭৪০ জন পরীক্ষার্থী এই ইউনিটে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। ফলে বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য এবারের ফলাফল হতাশার বার্তা নিয়ে এসেছে।
বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদের এই ‘এ’ ইউনিটে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ফলাফলও কঠিন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভর্তি পরীক্ষায় কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে উত্তীর্ণের হার কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ‘এ’ ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত আর্কিটেকচার বিভাগের জন্য আলাদা আবেদন করেন ৩ হাজার ৫৬১ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৫৪৬ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১৪০ জন, যা উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৯ শতাংশ। এই ফলাফলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে।
ভর্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় এবারের প্রশ্নপত্র তুলনামূলকভাবে বেশি বিশ্লেষণধর্মী ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেননি। বিশেষ করে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের অংশে বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল বলে মত পরীক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফল প্রকাশের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের মধ্যে আনন্দের আবহ থাকলেও বড় একটি অংশ হতাশায় ভুগছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ফলাফল নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী ধাপে ভর্তি কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করা হবে এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
সব মিলিয়ে এবারের ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল একদিকে যেমন প্রতিযোগিতার কঠিন চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য এটি হয়ে উঠেছে এক কঠিন বাস্তবতা।