
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল কখনোই সংবিধান বাতিলের পক্ষে নয়; বরং সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে। তিনি মনে করেন, সংবিধানের কিছু ধারা অতীতে ফ্যাসিবাদের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে, তাই সেগুলো পরিবর্তন করা জরুরি।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেন ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে, সে লক্ষ্যেই সংস্কারের দাবি তোলা হচ্ছে। তার ভাষায়, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন এমন কাঠামো, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে তার দলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তারা একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখতে চান। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এমন হওয়া উচিত, যেখানে আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো ধরনের দমন-পীড়ন চালানো সম্ভব হবে না।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন কিংবা গণঅভ্যুত্থান—এসব কোনো কিছুই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে গণভোটসহ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
মব কালচার নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি দাবি করেন, তার দলের ওপর অতীতে গুরুতর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে এবং অনেক নেতাকর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার পরও তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তোলাকে তিনি অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বলতে ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বোঝায়, যেখানে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতার জোরে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না।
মন্তব্য করুন