ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন সিনেমা ‘দম’ ট্রেলারে দেখলেই বোঝা যায়, আফরান নিশো এই সিনেমাতেও আবেগের এক গভীর অধ্যায়ে নিজেকে হারাবেন। এর আগে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দাগি’ এবং ‘সুরঙ্গ’-এ নিশোকে আবেগ ও কষ্টের মধ্যে কাঁদতে দেখা গেছে। তাই ট্রেলারের প্রথম দৃশ্যে দর্শকের মনে জন্মায় একটি ইঙ্গিত— ঈদ মানেই ‘নিশোর কান্না’।
সিনেমার শুরুতে আমরা পাই শাহজাহান ইসলাম নূর (নিশো)-কে, একজন সাধারণ যুবক যার জীবন কাটছে গ্রামের সরল ও শান্ত পরিবেশে। নূরের চরিত্রের সরলতা এবং আবহাওয়ার সহজ সরলতা দর্শকের সাথে সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। পূজা চেরি রাণীর চরিত্রে এসে নূরের জীবনে নতুন রঙ যোগ করেছেন। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের গান ‘তুমি চোখের আড়াল হও’ গল্পের রোমান্টিক মুহূর্তগুলোকে আরও স্নিগ্ধ ও আবেগময় করেছে। গানটির মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে আসা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠও দর্শকের মনে জাগিয়ে তোলে এক ধরনের নস্টালজিয়া।
গল্পের এক পর্যায়ে নূরের জীবন অচেনা পথে প্রবেশ করে। নতুন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পেতে গিয়ে সে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। এই লড়াই শুরু হয় তার নিজের এবং পরিবারের জন্য, আর সঙ্গে আসে আবেগের একটি দীর্ঘ অধ্যায়। পারিবারিক দায়িত্ব, আর্থিক চাপ, সামাজিক বাধা—সবকিছুই নূরের ওপর প্রভাব ফেলে। এখানে নিশোর আবেগপ্রবণ অভিনয় পুরো সিনেমার আবেগকে শক্তিশালী করেছে। চঞ্চল চৌধুরীর উপস্থিতি সিনেমার মূল গল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, তার চরিত্রের ভিন্ন মাত্রা দর্শকের মনে প্রভাব ফেলেছে।
সিনেমার আবেগ ও দৃশ্যের শক্তি বাড়াতে গান এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পারসা মেহজাবীন পূর্ণীর কণ্ঠে ‘আমি কোথায় পাবো তাহারে’ গানটি হৃদয়কে স্পর্শ করে। অন্যদিকে ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ গানটি দৃশ্যের সাথে ভালোভাবে মেলেছে। আরাফাত মহসীন নিধির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সিনেমার আবেগকে আরও গাঢ় করেছে।
‘দম’ একটি সুগঠিত, আবেগময় এবং মানবিক গল্প। নিশো গ্রামীণ ছেলের চরিত্রে যথাযথভাবে মানিয়ে গেছেন। পূজা চেরি, চঞ্চল চৌধুরী এবং অন্যান্য শিল্পীরা গল্পকে প্রাণবন্ত করেছেন। গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সিনেমার আবেগকে সমৃদ্ধ করেছে। শিশু ও কিশোররা এটি দেখতে পারে, তবে কিছু দৃশ্য সতর্কতার সঙ্গে দেখানো উচিত।
শেষ পর্যন্ত, ‘দম’ শুধু নিশোর আবেগের গল্প নয়, এটি পরিচালক রেদওয়ান রনি-র দীর্ঘদিনের স্বপ্নের রূপ। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আবেগের সুর, তা দর্শকের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। ঈদে নূরের বাড়ি ফেরার গল্প যেমন সফল হয়েছে, সিনেমার মাধ্যমে রনিও তার স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
মন্তব্য করুন