ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবন, আবেগ এবং স্মৃতিকে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ভালোবাসেন। রূপালি পর্দার গ্ল্যামার ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সরব উপস্থিতি তাকে আলাদা করে তুলেছে। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে তার পোস্টগুলো ভক্তদের জন্য হয়ে ওঠে বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এবারের পহেলা বৈশাখ-ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এইবারের বৈশাখ তার কাছে শুধু উৎসব নয়, বরং শৈশবের স্মৃতি আর মাতৃত্বের অনুভূতির এক অনন্য মিশেল।
বাংলা নববর্ষ মানেই নতুন পোশাক, রঙিন সাজ আর আনন্দে ভরা দিন। কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে অনেকের শৈশব লুকিয়ে থাকে সাদামাটা অথচ গভীর আনন্দে ভরা স্মৃতিতে। পরীমণিও সেই ব্যতিক্রম নন। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি তার ছোটবেলার বৈশাখ উদযাপনের গল্প শেয়ার করেছেন, যা অনেকের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় নতুন কাপড় কেনার সুযোগ সবসময় থাকত না। তাই তিনি তার মা ও নানীর শাড়ি কেটে নিজের জন্য বৈশাখের জামা বানাতেন। সেই সময়ের আনন্দ ছিল একেবারেই ভিন্ন—সরল, আন্তরিক এবং ভালোবাসায় ভরা। পরীমণির ভাষায়, সেই আনন্দের তুলনা হয় না। এই স্মৃতিগুলো আজও তার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, বরং বাংলাদেশের অনেক পরিবারের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও উৎসবকে ঘিরে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার যে সংস্কৃতি, সেটিই ফুটে উঠেছে তার কথায়। আর এ কারণেই তার এই স্মৃতিচারণ ভক্তদের কাছে এতটা আবেগঘন মনে হয়েছে।
বর্তমানে সময় বদলেছে, জীবনযাত্রা বদলেছে, পরীমণির অবস্থানও বদলেছে। তবে শৈশবের সেই আবেগ ও ঐতিহ্যকে তিনি ভুলে যাননি। বরং সেটিকেই নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন নিজের সন্তানদের জীবনে। এবারের বৈশাখে তিনি নিজের শাড়ি দিয়ে সন্তানদের জন্য বৈশাখী পোশাক তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি যেন নিজের শৈশবকে আবার নতুন করে অনুভব করছেন।
তার পোস্টে উঠে এসেছে মাতৃত্বের এক মায়াময় দিক। সন্তানদের নতুন পোশাকে দেখার অপেক্ষায় তিনি যেন একেবারে সাধারণ একজন মায়ের মতোই উদগ্রীব। তিনি লিখেছেন, তিনি শুধু অপেক্ষা করছেন তার সন্তানরা কখন ঘুম থেকে উঠবে এবং তার নিজের শাড়ি দিয়ে বানানো পোশাক পরে তার সামনে আসবে। সেই মুহূর্তটি তিনি উপভোগ করতে চান মন ভরে।
এই অনুভূতি নিছকই একজন তারকার নয়, বরং একজন মায়ের। এখানে নেই কোনো কৃত্রিমতা, নেই গ্ল্যামারের বাড়াবাড়ি—আছে শুধুই ভালোবাসা আর আবেগ। সন্তানদের প্রতি এই টান, তাদের ছোট ছোট মুহূর্তকে নিজের জীবনের বড় আনন্দ হিসেবে দেখার যে মানসিকতা, সেটিই তার এই পোস্টে সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে শুধু একটি উৎসব নয়, এটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আবেগের এক বিশাল অংশ। এই দিনে নতুন পোশাক পরা, পান্তা-ইলিশ খাওয়া, মেলা ঘোরা—সবকিছুই যেন একসঙ্গে মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য আবহ। তবে পরীমণির গল্প মনে করিয়ে দেয়, এই উৎসবের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা আর স্মৃতির ভেতরেই।
তার এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি বার্তা বহন করে। আজকের দিনে যখন সবকিছু সহজলভ্য, তখনও পুরোনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং সেটিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে দেখিয়েছেন। শুধু দামি পোশাক নয়, বরং একটি গল্প, একটি স্মৃতি, একটি অনুভূতি—এসবই একটি উৎসবকে পূর্ণতা দেয়।
পরীমণির এই শেয়ার করা স্মৃতিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার সঙ্গে নিজেদের শৈশবের মিল খুঁজে পেয়েছেন। কেউ কেউ নিজের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা গেছে একইভাবে তারা শাড়ি কেটে জামা বানিয়ে বৈশাখ উদযাপন করতেন। এর ফলে একটি ব্যক্তিগত পোস্ট যেন হয়ে উঠেছে এক সম্মিলিত স্মৃতির অংশ।
সবশেষে বলা যায়, এবারের বৈশাখে পরীমণি শুধু একজন তারকা হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ মানুষ এবং একজন মা হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। তার এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—উৎসবের আসল আনন্দ বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং হৃদয়ের গভীরে থাকা ভালোবাসা, স্মৃতি আর সম্পর্কের বন্ধনেই নিহিত।