বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি দেশের নেই।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সভায় জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS-এর একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হয়, যেখানে দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।
মন্ত্রী জানান, বৈদেশিক ঋণের চাপ, অভ্যন্তরীণ দেনা বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের অধিকাংশ অর্থনৈতিক সূচক এখন নিম্নমুখী।
সরকার অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপ বহন করা কঠিন হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত বোঝা চাপাতে চায় না। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে সরকারি ব্যয় বাড়তে থাকলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
এ সময় দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খলিলুর রহমান, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, রাবাব ফাতিমা এবং জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
মন্তব্য করুন