Mojammmal Fahad
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

হানি কম্বো একসাথে চারটি ভিন্ন স্বাদের মধু (Honey Combo)

এনসিপির জন্য আসন ছাড়ল জামায়াত, মনোনয়নে মাহমুদা-মনিরা

এনসিপির জন্য আসন ছাড়ল জামায়াত, মনোনয়নে মাহমুদা-মনিরা
এনসিপির জন্য আসন ছাড়ল জামায়াত, মনোনয়নে মাহমুদা-মনিরা

জাতীয় রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ততই জোটভিত্তিক সমঝোতা ও আসন বণ্টনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তাদের জোটসঙ্গী এনসিপিকে অতিরিক্ত একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে—যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এনসিপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে দুটি নাম—ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মনিরা শারমিন। দুজনই দলের সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতা হিসেবে পরিচিত। ডা. মাহমুদা আলম মিতু দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে মনিরা শারমিন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে সাংগঠনিক দক্ষতা ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত রয়েছে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। সবশেষে ৩০ এপ্রিল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে জোটভিত্তিক আসন বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, বিএনপি ও তাদের মিত্রদের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি তাদের নির্বাচনী সাফল্যের ভিত্তিতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার কথা। তবে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তারা আরও একটি আসনের দাবি জানায়, যা শেষ পর্যন্ত জামায়াতের পক্ষ থেকে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হয়েছে।

জামায়াতের এই সিদ্ধান্তকে জোটের ঐক্য ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, জোট রাজনীতিতে অংশীদারদের সন্তুষ্ট রাখা এবং পারস্পরিক সমঝোতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী আসনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সমঝোতা না হলে জোটের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই এনসিপিকে অতিরিক্ত একটি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা নির্বাচন কমিশনের সব নিয়ম মেনেই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবেন। দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা না হলেও অভ্যন্তরীণভাবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদন—এই সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জোটের স্বার্থে এনসিপিকে একটি অতিরিক্ত নারী আসন দেওয়া হবে। পাশাপাশি অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও আসন বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। জোটভিত্তিক রাজনীতিতে এই ধরনের সমঝোতা নতুন কিছু নয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসন শুধু প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং নীতিনির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এখানে প্রার্থী নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলো সচেতন ভূমিকা পালন করে থাকে। যোগ্য, দক্ষ এবং সংগঠনের প্রতি নিবেদিত নারীদের সামনে আনার মাধ্যমে দলগুলো তাদের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে চায়।

এই প্রেক্ষাপটে ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মনিরা শারমিনের নাম সামনে আসা দলটির ভেতরে নারী নেতৃত্ব বিকাশের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এটি একদিকে যেমন জোট রাজনীতির ভারসাম্য বজায় রাখার উদাহরণ, অন্যদিকে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার পর এই সমীকরণ কতটা স্থায়ী হয় এবং নির্বাচনের ফলাফল জোটের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পূর্ব শত্রুতা ও টাকা-পয়সার বিরোধে আসাদুল হত্যা: পুলিশের দাবি

হামের টিকা অবহেলা, ক্ষমাহীন অপরাধ দুই সরকারের

এনসিপির জন্য আসন ছাড়ল জামায়াত, মনোনয়নে মাহমুদা-মনিরা

আগে সহজে মিলত তেল, এখন সারারাত অপেক্ষাতেও নেই নিশ্চয়তা

থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা, ভক্তদের মধ্যে চাঞ্চল্য

জুলাইয়ের অপরাধের বিচার: ধীরগতি ও গাফিলতি নিয়ে শঙ্কা

শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় নতুন অ্যাপ, বয়স যাচাই হবে বাধ্যতামূলক

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করল ইরান, স্বস্তি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে

অপহৃত মাদরাসা ছাত্রী: দ্রুত উদ্ধারে সরকারের প্রতি আহ্বান জামায়াত আমিরের

ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

১০

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, বাংলাদেশে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া

১১

সবজির বাজারে আগুন, অধিকাংশের দাম ১০০ টাকার ওপরে

১২

সাংগ্রাই জলকেলিতে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন মারমা তরুণ-তরুণীরা

১৩

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে শনিবার বৈঠকে বসছে কমিটি

১৪

অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে এয়ারলাইন্স খাতের গুরুত্ব বাড়ছে

১৫

তামিম সভাপতি হওয়ার পর মিরাজের সঙ্গে কী আলোচনা?

১৬

সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েল-লেবানন আলোচনায় বসছে, আশাবাদী ট্রাম্প

১৭

অক্সিজেন আর ক্যানুলায় ভর করে বেঁচে থাকার লড়াই শিশুদের

১৮

আ.লীগ আমলের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে উদ্যোগ

১৯

হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড

২০